সমালোচনা ও কটাক্ষে ভেঙে পড়েছেন, ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় জানালেন শচীন
দিন দিন আপনার ব্যর্থতার ভার ভারি হচ্ছে? কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। তুলে তুলে ছক্কা মেরে প্রতিপক্ষকে যেদিন তিনি চুরমার করে দিয়েছেন, সেদিন নায়ক হয়েছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যখন তাকে শূন্য রানে বিদায় নিতে হয়েছে, সেদিন হয়েছেন খলনায়ক। এ ব্যর্থতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ, আঙুল তোলা তাকে বিদ্ধ করেছে; কিন্তু হারেননি ভারতের সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাস্টার-ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুকার।
তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। জীবনে অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন এ সাবেক অধিনায়ক। সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন বারবার। তা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ সেঞ্চুরির অধিকারী শচীন টেন্ডুলকার। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের পাশে জ্বলজ্বল করে তারই নাম।
ওয়ান ডে ক্রিকেটে তার রয়েছে ১৮ হাজার ৪২৬ রান। সে রেকর্ডও এখন পর্যন্ত ভাঙতে পারেননি কেউ। সেই সাফল্য পেতে গিয়ে যেভাবে লোকের কটাক্ষের জবাব দিয়েছিলেন, তা জেনে নিতে পারেন আপনিও। ‘প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে’ শীর্ষক আত্মজীবনীতে শচীন টেন্ডুলকার বলেছেন, তোমার দিকে যদি কেউ পাথর ছোড়ে, তুমি তাকে মাইলফলকে পরিণত করতে পার।
শচীন যখন খেলেছিলেন, তখন সামাজিক মাধ্যমের এমন রমরমা ছিল না। তা সত্ত্বেও কটাক্ষে জর্জরিত হয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যখন তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র, তখনও সমালোচনা ধেয়ে এসেছে। এসেছে ব্যর্থতাও। এখন সামাজিক মাধ্যমে যে কোনো বিষয় নিয়ে মানুষ খুব সহজেই বিষোদ্গার করতে পারেন। সেসব মন্তব্য যে কোনো পেশার মানুষকেই কার্যত ভেঙে চুরমার করে দেয়। অনেকেই ব্যর্থতার আঘাত সহ্য করতে না পেরে, নিজে থেকেই সরে যান। তবে শচীনের ছোট্ট একটি কথাই প্রমাণ করে, নিজের ওপর বিশ্বাস, আর কিছু করে দেখানোর খিদে থাকলে কাউকে লক্ষ্যচ্যুত করা যায় না।
শচীন টেন্ডুলকার সমালোচনা কিংবা কটাক্ষের জবাব দিতে বলেননি। নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে বলছেন তিনি আরও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে। লক্ষ্য ছোঁয়াই হলো সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার উপযুক্ত উপায়। যেখানে হিংসা নেই, মারামারি, প্রতিযোগিতার চাপ নেই— আছে শুধু আরও ভালো করার অদম্য জেদ।
শচীনের বার্তাই বলে দিচ্ছে— আপনার যখন মনে হবে সব কিছু শেষ, ঠিক তখনই ঘুরে দাঁড়ানো যায়। ছোঁয়া যায় মাইলফলক। তার মূলমন্ত্রই হলো— পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, হাল না ছেড়ে লড়তে হবে। জীবনে ব্যর্থতা আসবেই, তবে তাতে ভেঙে না পড়ে দ্বিগুণ প্রাণশক্তি নিয়ে ফিরতে হবে।

