img

দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কী কী করা দরকার, এটা তারাই সবচেয়ে ভালো বুঝবেন। প্রতিবন্ধী মানুষের কাছ থেকে জানার ও শেখার অনেক কিছু রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাইমা রহমান। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘প্রোসপারিং টুগেদার: অ্যান ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ (একসঙ্গে সমৃদ্ধি: অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ)। 

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নানা বয়সী ২২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি জানিয়ে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দিয়েছেন জাইমা রহমান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে জাইমা রহমান তার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘কষ্টগুলো হয়তো কেবল তারাই বুঝে যারা এর ভেতর দিয়ে যায়, আমরা হয়তো শুধু চেষ্টা করতে পারি উপলব্ধি করার। তবে এগিয়েও আসতে পারি, তাদেরই কথা শুনে, বুঝে ও অনুধাবন করে একটু যদি সহজ করা যায় তাদের পথচলা? গতকালকের কথোপকথন ছিল অনেকটাই অন্যরকম। যাদের দৃষ্টি শক্তি নেই- তাদের কাছে এই পৃথিবীটা কেমন? কিংবা যিনি বাকশক্তি হারিয়েছেন তার কথাগুলো বুঝার প্রচেষ্টা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কি পরিমাণ বাধাগ্রস্থ করে তা বর্ণনাতীত-  সব মিলিয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা হয়েছে।’

 অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। একজন বলেন, সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখে পড়ে প্রতিবন্ধী শিশুরা। আবার প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে মাসে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা করার কথাও বলেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে পার্কের খোলা চত্বরে কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে মধ্যখানে বসেন জাইমা রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন ইশারা ভাষা অনুবাদকারী (দোভাষী হিসেবেও পরিচিত) আফরোজা খাতুন। আর জাইমা রহমানের দুই পাশে বসেন প্রতিবন্ধী মানুষেরা। 

দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই অনুষ্ঠানের পুরোটা সময় তিনি প্রতিবন্ধী মানুষের কথা শোনেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে জাইমা রহমান শুধু বলেছেন, সবার বক্তব্যে তিনি অনেক কিছু জেনেছেন, শিখেছেন।

নানা সীমাবদ্ধতা-কষ্টের মধ্যেও প্রতিবন্ধী মানুষেরা যে সক্ষমতা ও সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশ ও জাতির জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান।

এই বিভাগের আরও খবর