জাতির প্রতিটি সংকটে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন জিয়াউর রহমান
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক— এটি মীমাংসিত সত্য। তাদের নেতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের মর্যাদা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এখন আবার কেউ কেউ আওয়ামী স্টাইলে জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিদ্রোহের ডাককে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে। যারা ইয়াহিয়ার কণ্ঠে বাংলাদেশের পতনের বাণী শুনতে উদগ্রীব ছিলেন- তারা মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনবেন কীভাবে?
তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতিসত্তার রূপকার। মহান স্বাধীনতার ঘোষক। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। জিয়া স্বাধীনতাযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রথম সামরিক ব্রিগেড ‘জেড’ ফোর্সের অধিনায়ক। সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি বারবার দাঁড়িয়েছিলেন নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে। অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে তিনি সময়ের প্রয়োজনে আলোর দ্যুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘হৃদয়ে জিয়া পরিবার’ আয়োজিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
জাতিগতভাবে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে সোনালি অক্ষরে লেখা আছে জিয়াউর রহমানের নাম। ২৫ মার্চ কাল রাতে অকস্মাৎ গর্জে উঠল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতিয়ার। নিরস্ত্র, নিরপরাধ ঘুমন্ত জাতির ওপর হিংস্র বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল তারা। বেঘোরে প্রাণ হারাল অগণিত মানুষ। রাজনৈতিক নেতৃত্বহীন, অপ্রস্তুত, অসংগঠিত জাতি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়, ঠিক সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে এলো একটি বজ্রকণ্ঠ—‘আমি মেজর জিয়া বলছি’। তার এ ঘোষণা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিল।
সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন ব্যর্থ, সৈনিক জিয়া তখন হাল ধরলেন। আশাহত শঙ্কিত জাতিকে জিয়া আশাজাগানিয়া গান শোনালেন; তিনি ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বাঙালি সৈন্যদের একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর সবাইকে একত্রিত করে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা জিয়াই করেছিলেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। সব ক্যান্টনমেন্টে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করেন। বাঙালি সেনাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন।
হুমায়ুন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জুনায়েদ আবরারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মহসিন, প্রফেসর শাহ আলম, মহিউদ্দিন মুনির, মাসুদ রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

