img

মস্কো সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে রাশিয়া কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে না। 

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েব পোর্টালে জানায়, রাশিয়া এসকল রাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি মধ্যস্থতা না করলেও, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অনুরোধ করলে যেকোনো ধরনের মতপার্থক্য দূর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে মস্কো দীর্ঘ সময় ধরেই শিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণার আলোকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়েও মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে। ২০২৫ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে হওয়া বৈঠকসহ বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যায়ের এই নিবিড় যোগাযোগ দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা বৃদ্ধির ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে বলে মস্কো মনে করে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ২০২৫ সালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক দশম আন্তঃসরকারি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বর্তমানে মস্কো ও ইসলামাবাদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় সোভিয়েত সহায়তায় নির্মিত করাচি মেটালার্জিক্যাল প্ল্যান্টের সংস্কার, ওষুধ শিল্পে বিশেষ করে ইনসুলিন উৎপাদনে সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরের মাধ্যমে আন্তঃমহাদেশীয় মালবাহী পরিবহন ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার মতো সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলো নিয়ে কাজ চলছে।

এ ছাড়াও, পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস প্রকল্পে রুশ কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার তাতারস্তান এবং প্রিমোরস্কি ক্রাইয়ের মতো অঞ্চলগুলো পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশের সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ