শীতে ঘুম সহায়ক কিছু উষ্ণ পানীয়, যা বললেন পুষ্টিবিদ
দিনের আলো অনেকটাই কমে যাওয়া, ঠাণ্ডা আবহাওয়া আর শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তনের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া স্বাভাবিক। সে কারণে আরাম ঘুমের ঘাটতি কমাতে ওষুধ কিংবা অতিরিক্ত উপকরণের ওপর ভরসা না করে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। বারবার ঘুম ভাঙা রোধ ও মানসিক অস্থিরতা কমাতে পান করা যায় নানান উষ্ণ পানীয়। বিশেষ করে শীতের সময় ঘুমের ধরন বদলানো জরুরি।
এ বিষয়ে বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলোর বলেছেন, ঘুমের আগে উষ্ণ ও ক্যাফিনমুক্ত পানীয় শরীর এবং মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। আর শীতকালে স্নায়ুতন্ত্রে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এ সময় উষ্ণ পানীয় শরীরকে নিরাপত্তা ও প্রশান্তির সংকেত দেয়, যা ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এ পুষ্টিবিদ বলেন, ঘুম ভালো হওয়ার পেছনে শরীরের তাপমাত্রা, রক্তে শর্করার ভারসাম্য, মানসিক চাপ এবং হরমোনের সমন্বয় কাজ করে থাকে। উষ্ণ পানীয় শরীরকে ধীরে ধীরে শিথিল করে, মানসিক অস্থিরতা কমায় এবং রাতে ঘুম ভাঙার প্রবণতা হ্রাস করে।
সে জন্য শীতের রাতে ঘুমের আগে উষ্ণ পানীয় পান করলে তা শুধু শরীরেই গরম রাখে না, বরং মানসিকভাবেও আরাম দেয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক-
১. ঘুমের আগে দুধ খাওয়ার অভ্যাস ছোট থেকেই অনেকের রয়েছে। দুধে এমন এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরে প্রশান্তি ও ঘুমের হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। আর গরম দুধে থাকা প্রোটিন ও অল্প পরিমাণ শর্করা রাতে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে। এর ফলে মাঝরাতে ঘুমভাঙার সম্ভাবনা কমে যায়।
২. মধু কিংবা দারুচিনি মিশিয়ে দুধ পান করলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি আরামও বেশি পাওয়া যায়।
৩. আর গরম দুধের সঙ্গে হলুদ, আদা, দারুচিনি ও সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে ঘুম ভালো হয়। এ ছাড়া হলুদ ও আদার প্রদাহনাশক গুণ শরীরের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে, যা ভালো ঘুমের জন্য উপকারী। আর হলুদের কার্যকারিতা বাড়ায় গোলমরিচ এবং পানীয়টিকে আরও উষ্ণ করে। শীতের সময়ে রাতে ঘুমানোর আগে এ দুধ খেলে শরীর ও মন দুটোকেই আরাম পায়।
৪. তুলসি ও অশ্বগন্ধার চা আপনার মানসিক চাপ বা অস্থিরতা দূর করে। সে জন্য তুলসি ও অশ্বগন্ধার চা ভীষণ উপকারী, যা আপনার ঘুমের জন্য আরামদায়ক। কারণ তুলসি মানসিক চাপের হরমোনের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত করে। আর অশ্বগন্ধা স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়তা করে।
৫. শীতের রাতে ঘুমের আগে ল্যাভেন্ডার চা পানেও মানসিক প্রশান্তি বাড়তে পারে। ল্যাভেন্ডারের ঘ্রাণ ও উপাদান মানসিক অস্থিরতা কমাতে এবং ঘুমের শুরু সহজ করতে সাহায্য করে।
৬. আর ঘুমের জন্য সবচেয়ে পরিচিত ভেষজ চায়ের মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যামোমাইল। কারণ ক্যামোমাইলে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান মস্তিষ্কের এমন অংশে কাজ করে, যা উদ্বেগ কমাতে সহায়ক। আর গরম ক্যামোমাইল চা শরীরের শান্ত স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে, বিশেষ করে শীতের সন্ধ্যায়। যেহেতু এতে ক্যাফিন নেই, তাই রাতে পান করাও নিরাপদ। বিভিন্ন সুপারশপে দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের চা মিলবে।

