img

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। 

মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনসহ বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ওই অঞ্চলে মোতায়েন করার প্রতিবাদে এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুদিনব্যাপী সরাসরি গুলিবর্ষণসহ নৌ-মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হতে যাওয়া এ মহড়াকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

ইরানের এ ঘোষণার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে ইরানি ড্রোন বা বিমানের উড্ডয়ন কিংবা দ্রুতগামী ইরানি স্পিডবোটের মাধ্যমে সংঘর্ষের উসকানি দেওয়ার মতো যে কোনো ‘অনিরাপদ’ কর্মকাণ্ড তারা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। 

কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের অব্যাহত হুমকি এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।

এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়েও তৈরি হয়েছে এক ধরনের ধোঁয়াশা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তার দেশ একটি ‘ন্যায্য ও সঠিক’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধান দাবিগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এবং মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে কোনো অবস্থাতেই কোনো সমঝোতা হবে না। 

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর চাপ ও সামরিক সমাবেশের মুখে ইরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই বিভাগের আরও খবর