বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও মদ্যপান করায় ইন্দোনেশীয় যুগলকে ১৪০ বেত্রাঘাত
মদ খেয়ে বিবাহের আগে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে এক যুগলকে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী জনসমক্ষে ১৪০টি বেত্রাঘাত করেছে ইন্দোনেশিয়ার নীতিপুলিশ। একের পর এক বেতের আঘাত সহ্য করতে না পরে এক পর্যায়ে ওই যুগলের তরুণী অজ্ঞান হয়ে পড়েন, এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই তরুণীর বয়স মাত্র ২১ বছর বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে ঘটেছে এই ঘটনা। খবর বিবিসির।
স্থানীয় ও প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়ায় এর আগে কখনও একবারে কারো ওপর এত বেত্রাঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় প্রদেশের সংখ্যা মোট ৩৮টি। এগুলোর মধ্যে একমাত্র আচেহ প্রদেশে সাধারণ আইনের পাশাপাশি কট্টর শরিয়া আইন ও শরিয়াপন্থি বিচারব্যবস্থা প্রচলিত। সেই শরিয়া আইনে মদ্যপানের জন্য ৪০টি এবং বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শাস্তি হিসেবে ১০০টি বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে।
যেহেতু ওই যুগলের বিরুদ্ধে এ দুটি অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তাই দুই অপরাধের শাস্তিই প্রদান করা হয়েছে তাদের।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ওই যুগলসহ মোট চারজনকে বেত্রাঘাত করা হয়। শরিয়া আদালতের রায় কার্যকর করতে মঞ্চে জনসম্মুখে প্রকাশ্যে ওই তরুণীকে বেত্রাঘাত করছিরেন ৩ নারী পুলিশ সদস্য। একের পর এক বেতের আঘাতে প্রথমে ওই তরুণী কাঁদছিলেন— পড়ে একসময় মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই নারী চিকিৎসাধীন আছেন।
আচেহ প্রদেশে এর আগেও বেত্রাঘাত জনিত কারণে গুরুতর অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে।
ইসলামী পুলিশ বাহিনীর প্রধান মুহাম্মদ রিজাল জানান, বাহিনীর ওই কর্মকর্তা তার নারী সঙ্গীর বাড়িতে একান্ত অবস্থায় ধরা পড়েন। এ অপরাধে কর্মকর্তাকে ২৩ বার বেত্রাঘাত করা হয়, একই শাস্তি দেওয়া হয় তার নারী সঙ্গীকেও। রিজাল জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল আচেহ প্রদেশে শরিয়াহ আইন ভঙ্গের ঘটনায় প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত একটি প্রচলিত শাস্তি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই শাস্তির সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, এ ধরনের দণ্ড নিষ্ঠুর এবং মানবাধিকারের পরিপন্থি।
ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন কনত্রাসের আচেহ সমন্বয়কারী আজহারুল হুসনা বলেন, বেত্রাঘাতের মতো শাস্তি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। তার মতে, শাস্তি কার্যকরের নিয়মকানুন উন্নত করা এবং শাস্তির পর ভুক্তভোগীদের শারীরিক ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, মুসলিম-অধ্যুষিত ইন্দোনেশিয়ায় আচেহ একমাত্র প্রদেশ যেখানে শরিয়াহ আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর রয়েছে। এখানে নৈতিক ও ধর্মীয় অপরাধের জন্য নিয়মিতভাবেই প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের মতো শাস্তি দেওয়া হয়, যা দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়ে চলেছে।

