নতুন কোন স্বৈরাচারকে বসানোর জন্য গণঅভ্যুত্থান করিনি: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এক স্বৈরাচারকে সরিয়ে নতুন কোন স্বৈরাচারকে বসানোর জন্য গণঅভ্যুত্থান করি নাই। বরং কেউ যাতে স্বৈরাচার হতে না পারে সেই জন্য গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নরসিংদী-২ পলাশের ঘোড়াশালে এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি দল প্রথম থেকেই সংস্কারের বিরোধিতা করে আসছে। তারা ফ্যাসিবাদীর আমলে ৩১ দফা দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগষ্টের পর দেখলাম তারা এই প্রতিশ্রুতিতে নাই। তারা জাতীর সাথে প্রতারণা করে সকল সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই আপনারা মিলিয়ে নিবেন কে কি প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তা কতটুকু রক্ষা করে। জনগণের কাছে কথা দিলে তো কথা রক্ষা করতে হবে। আগামী নির্বাচনে তারা বিজয়ী হলে তাদের দেওয়া একটি কথাও তারা রাখবে না।
২০০৮ সালে শেখ হাসিনা বলেছিল, দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজিতে চালা খাওয়াবে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য হয় নাই ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ার। এই দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য এই দেশে থেকে শত শত কোটি টাকা লুট পাট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবার আমরা দেখতে পাচ্ছি কিভাবে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন করে টাকা পাচার ও লুপাটের প্ল্যান করা হচ্ছে। এই সকলের বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে আপনাদের জবাব দিতে হবে।
প্রিয় পলাশবাসী আমরা বলতে চাই আমরা কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। এই অর্থনীতিকে আবারও চাঙা করতে হলে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান এই ৩টি সেক্টরে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এর জন্য দেশের দুর্নীতি এবং দুর্বিতায়নের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশের জনগণকে এবার ঠিক করতে হবে তারা কোন দলের কাছে নিরাপদ। যে দলের কাছে তার দলের নেতাকর্মী ও প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা নিরাপদ নয়, সে দলের কাছে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ নিরাপদ নয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন নিরাপদ ১১ দলীয় জোটের কাছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বড় বড় কথা, মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতায় আসার যে রাজনীতি। সেই রাজনীতি শেষ করে দিয়েছি ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশ মানুষ এখন সচেতন। ভোট কেন্দ্র দখলে যদি কোন পায়তারা থাকে পালাশবাসী তা প্রতিহত করবে। সারা বাংলাদেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে। ভোট কেন্দ্র দখলের যে কোন প্ল্যান, ভোট চুরি করে নির্বাচনের জয়ের যে কোন প্ল্যানকে আমরা পরাস্ত করব আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি দল সহিংস রূপ ধারণ করছে। আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে আমাদের যে অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সেই দলটি হত ১৭ মাসে আমাদের সেই অভিজ্ঞতা দিয়েছে। যারা আবারও আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হতে চায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা তাদের বিতাড়িত করব।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আসিফ বলেন,বিভিন্ন কার্ডের কথা বলে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ কোনট কৃষক কার্ড আর কোনটা ফ্যামেলি কার্ড তা তারাই চিনতে পারছে না। তাহলে দেশের জনগণ কিভাবে চিনবে?
এ সময় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে শাপলা কলির পক্ষে এবং হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, নরসিংদী-২ আসনে দলের প্রার্থী সারোয়ার তুষারসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

