img

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কারাগারে থাকা সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় কাঁদলেন আলোচিত এই সাংবাদিক। পরে তার আইনজীবীরা সান্ত্বনা দেন।

বুধবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আনিস আলমগীরের আইনজীবী নাজনীন নাহার ও তাসলিমা জাহান পপি এ তথ্য জানান।

এদিন বেলা ১১টায় আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর ১২টা পর্যন্ত কাঠগড়ায় ছিলেন তিনি। পরে শুনানি শেষে দুদকের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। কাঠগড়ায় থাকা অবস্থায় আনিস আলমগীরকে মাঝে মাঝে তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

এ সময় আইনজীবী নিয়াজ উদ্দিনকে তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক জেলখানায় অথচ কেউ কিছু লেখেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ সোচ্চার নেই। বিনা কারণে তাকে জেলহাজতে আটক রাখা হয়েছে। একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করা হয়নি।

তখন পাশে থাকা তার আইনজীবী নাজনীন নাহার সান্ত্বনা দিয়ে আনিস আলমগীরকে বলেন, এসব মিথ্যা মামলা। আপনাকে শক্ত হতে হবে। পরে তাকে কাঠগড়া থেকে মহানগর হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাজনীন নাহার আদালতকে বলেন, আনিস আলমগীরের মামলায় তার যে ঠিকানাটা এখানে দেওয়া হয়েছে, সেটা আগের ঠিকানা। ঠিকানাটা আছে সেখানে তিনি থাকেন না। এজন্য আদালতের কাছে সেটি পরিবর্তন করতে আবেদন করছি। এর আগে ২৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান। আদালত সেদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসাবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর