পাটওয়ারীর ওপর হামলায় যাকে দোষারোপ করলেন নাহিদ ইসলাম
রাজধানী ঢাকার রমনায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ও তারেক রহমানের সম্মতিতে ঘটেছে এবং ছাত্রদলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী-ক্যাডাররা পরিকল্পনা করে এটি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
এ হামলাকে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করে নাহিদ বলেন, আপনারা একদিকে ভালো ভালো কথা বলবেন, আরেকদিকে বিরোধীদের সন্ত্রাসী কায়দায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসন করবেন; এটা আমরা বাংলাদেশে হতে দেব না...।
‘আজকে আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি নির্বাচন কমিশনের প্রতি- দেখতে চাই এর ব্যবস্থা কী নেয়। কলেজ প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয় এবং বিএনপি দলীয়ভাবে এর কী ব্যবস্থা নেয়। এরপর বাকি জবাব আমরা রাজপথে দেব, ১২ তারিখে।’
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করছেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই আসনে লড়ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাসের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগে যা করছেন করছেন, সেই আচরণ যদি পরিত্যাগ করতে না পারেন, তাহলে এবার নির্বাচনে এটার পরিণতি ভালো হবে না। নির্বাচন মানে কথার লড়াই। আপনি একটা কথা বলবেন, আমি একটা কথা বলবো। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কাকে ভোট দেবেন। আপনারা জনগণকে কেন সিদ্ধান্ত নিতে দিচ্ছেন না? জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করবে, কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার। কে সন্ত্রাসী আর কে জনগণের পক্ষে কথা বলে।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, মির্জা আব্বাসের ইতিহাস আমরা জানি। আমরাও এ ঢাকা শহরে বড় হয়েছি। জিয়াউর রহমান মির্জা আব্বাসকে ডেকে একটা হুন্ডা এবং ৩০ টাকা দিয়ে বলছিলেন যে, ‘আমার সঙ্গে রাজনীতি করো এবং ইলেকশনে কাজ করো’। ওইখান থেকে বিএনপির সঙ্গে তার রাজনীতিতে যাত্রা। সেই জায়গা থেকে তিনি ঢাকা শহরে সাম্রাজ্য তৈরি করছেন। এই সাম্রাজ্য কীভাবে হয়েছে, তা এ ঢাকা শহরের, বাংলাদেশের মানুষ জানে।
এই তরুণ নেতা আরও বলেন, কিছু হলেই জামায়াতের অতীত নিয়ে কথা বলা হয়। কিন্তু তাদের (বিএনপির) নিজেদের অতীত কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ভুলে নাই। ২০০১ থেকে ২০০৬, বাংলাদেশের মানুষ ভুলে নাই। অতীত ধরে কথা বললে সবার অতীত ধরে আমরাও কথা বলবো।

