যে মামলায় আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'চার্জশিটের ২৬ আসামির মধ্যে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। এই মামলায় পাঁচজন বিভিন্ন সময়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তারা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।'
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও আবুল বারকাত পরস্পর যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এননটেক্স গ্রুপের ২২টি প্রতিষ্ঠানকে এই ঋণের অর্থ দিয়েছিলেন। আতিউর রহমান ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন অনৈতিক কৌশলে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ অক্টোবর আবুল বারকাতসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ড তৈরি করে জনতা ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ৫৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে সুদ-আসলে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকায়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, সাবেক সহকারী পরিচালক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম, জনতা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. ইমদাদুল হক, নাগিবুল ইসলাম দীপু, আর এম দেবনাথ, মো. আবু নাসের, সঙ্গীতা আহমেদ ও অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র নাথ।
তালিকায় আরও রয়েছেন— জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও আবদুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক আজমুল হক, সাবেক এজিএম অজয় কুমার ঘোষ, সাবেক ম্যানেজার (শিল্প ঋণ-১) মো. গোলাম আজম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, এসইও মো. এমদাদুল হক, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল জব্বার, সাবেক ডিএমডি মো. গোলাম ফারুক ও ওমর ফারুক। এছাড়া অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ বাদল, মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ও পরিচালক মো. আবু তালহাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এজাহারে প্রাথমিক আত্মসাতের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৬ টাকা।

