img

সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে যে প্রাণীকে জবাই করা হয় তাকে আকিকা বলে। চাই তা ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। কেননা এ প্রাণীর হলক তথা গলা কাটা করা হয়। প্রাক-ইসলামী যুগেও আকিকার প্রথা চালু ছিল। মাওয়ারদী বলেন, আকিকা বলা হয় ওই ছাগলকে- ইসলাম পূর্বযুগে আরবরা যা সন্তান ভূমিষ্ট হলে জবাই করত।

এখন প্রশ্ন হলো— সাধারণত ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ছাগল দিয়ে আকিকা দিতে হয়; কিন্তু সামর্থ্য না থাকলে কেউ যদি একটি ছাগল দিয়ে আকিকা দেয়— তাহলে কি তা আদায় হবে? অথবা একটি ছাগল প্রথমে দিল, কিছুদিন পর আরেকটি দিল— এভাবে কি আকিকা আদায় হবে?

হ্যাঁ, যদি সামর্থ্য না থাকার কারণে কেউ একটি ছাগল দেয় তাহলে তার আকিকা হয়ে যাবে। আর যদি দুটি একবারে দিতে সামর্থ্য না থাকে, তাহলে একটি ছাগল প্রথমে দিল পরে আরেকটি দিল— সেটাও তার জন্য জায়েজ রয়েছে। দুটি দিলেও তার আকিকা হয়ে যাবে এবং একটি দিলেও আকিকা হয়ে যাবে; কিন্তু সুন্নাহ হচ্ছে- যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে দুটিই দিতে হবে। দুটি দেওয়া হচ্ছে নবী করিম (সা.)-এর নির্দেশনা। একটি দিলেও তার আকিকা হয়ে যাবে, যেহেতু তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহের কাজ হয়ে গেছে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ জবেহ করা হয়ে গেছে এজন্য তার আকিকাও হয়ে গেছে।

আকিকা সংক্রান্ত কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো—

> সন্তান জন্মগ্রহণের শুকরিয়াস্বরূপ যে পশু যবাই করা হয় তাকে আকিকা বলে। আর আকিকা করা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, সন্তানের জন্য আকিকা করতে হয়। সুতরাং তোমরা তার পক্ষ থেকে যবাই কর এবং তার ‘জঞ্জাল’ দূর কর (অর্থাৎ চুল চেছে ফেল)। (বুখারি ২/৮২২)

> রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যার সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে যদি শিশুটির পক্ষ থেকে আকিকা করা পছন্দ করে তাহলে যেন তাই করে। (নাসাঈ ২/১৬৭)

> সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪ বা ২১ তম দিনে করা ভালো। কেননা হাদিস শরিফে এই তিন দিনের উল্লেখ আছে। এ তিন দিনেও করা না হলে পরে যে কোনো দিন আকিকা করা যেতে পারে।

> হজরত আমর ইবনে শুআইব-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নবজাতকের সপ্তম দিনে আকিকা করা, নাম রাখা ও তার জঞ্জাল দূর করার (অর্থাৎ মাথার চুল কাটার) নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ১২/৩২৬)

> হজরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আকিকার পশু সপ্তম বা চৌদ্দতম বা একুশতম দিনে জবাই করা হবে। (আলমুজামুল আওসাত ৫/৪৫৭)

কারও আকিকা করা না হলে বড় হয়ে নিজের আকিকা নিজেও করতে পারবে।

> হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়ত প্রাপ্তির পর নিজের আকিকা নিজে করেছেন। (প্রাগুক্ত ১/৫২৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ৬২০৩; আলমুফাসসাল ফী আহকামিল আকিকা, ড. হুসামুদ্দীন ইবনে মূসা, জামেয়াতুল  কূদস, পৃ. ১৪২)

> হজরত হাসান বসরি (রাহ.) বলেন, ‘তোমার যদি আকিকা না করা হয়ে থাকে তাহলে তুমি নিজের আকিকা করে নাও। যদিও তুমি ইতোমধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছো।’ (আলমুহাল্লা ৬/২৪০)

পুত্র ও কন্যা সন্তানের আকিকা

পুত্র সন্তান হলে দুটি আর কন্যাসন্তান হলে একটি ছাগল/ভেড়া/দুম্বা দ্বারা আকিকা করা উত্তম। তবে পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে একটি জবাই করলেও আকিকার হক আদায় হয়ে যাবে। এছাড়া উট, মহিষ, গরু ইত্যাদি দ্বারা আকিকা করা যায়।

> হজরত উম্মে কুরয (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল আর কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল জবাই করবে। (তিরমিজি ১/১৮৩)

> হজরত ইবনে আববাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত হাসান ও হুসাইন (রা)-এর পক্ষ থেকে একটি একটি ভেড়া আকিকা করেছেন।’ (আবু দাউদ ২/৩৯২)

> হজরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যার কোনো সন্তান জন্মলাভ করে সে যেন উট, গরু অথবা ছাগল দ্বারা আকিকা করে। (আলমুজামুল আওসাত ২/৩৭১)

আকিকার গোশত পিতা-মাতা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই খেতে পারবেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, (আকিকার গোশত) নিজে খাবে, অন্যদের খাওয়াবে এবং সদকা করবে।

এই বিভাগের আরও খবর