নীল নদের পানি বণ্টনে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাল মিশর ও সুদান
নীল নদের পানি বণ্টন এবং ইথিওপিয়ার বহুল বিতর্কিত ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’ (জিইআরডি) নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে মিশর ও সুদান।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান পৃথক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। ট্রাম্প গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঘোষণা করেছিলেন, মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে এই জটিল ইস্যুটির সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় মধ্যস্থতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় নীল নদকে মিশরীয় জনগণের ‘জীবনরেখা’ হিসেবে অভিহিত করে এই বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের প্রশংসা করেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নীল নদ অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যাতে কোনো পক্ষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়।
সিসি জানান যে তিনি ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়ে মিশরের পানিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং আগামী দিনগুলোতে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
একইভাবে সুদানের নেতা আল-বুরহান ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, একটি টেকসই ও সন্তোষজনক সমাধান খুঁজে বের করাই তাদের লক্ষ্য যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অধিকার রক্ষা করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নীল নদের পানি মোট ১১টি দেশ শেয়ার করলেও বাঁধ নির্মাণ নিয়ে মূলত ইথিওপিয়ার সঙ্গে ভাটির দেশ মিশর ও সুদানের বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। টানা ১৪ বছর নির্মাণের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্লু-নাইলে এই বিশাল বাঁধটি উদ্বোধন করে ইথিওপিয়া।
মিশর ও সুদান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, বাঁধের পানি পূর্ণ করা এবং এটি পরিচালনার বিষয়ে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছানো অপরিহার্য।
ইথিওপিয়া এই প্রকল্পকে তাদের উন্নয়নের চাবিকাঠি মনে করলেও ভাটির দেশগুলো তাদের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে মরিয়া। এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব আফ্রিকায় দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক ও পরিবেশগত উত্তেজনা নিরসনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

