চঞ্চল-পরীমনির ‘শাস্তি’
প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন দেশের জনপ্রিয় দুই অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী ও পরীমনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বণে নতুন এই পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন লীসা গাজী। জানা গেছে, আগামী সোমবার ছবিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
আসন্ন এই সিনেমা নিয়ে পরিচালক জানান, রবীন্দ্রনাথের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এটি হুবহু পুনর্নির্মাণ নয়; বরং নতুন সময়ের ভাষায় গল্পটি তুলে ধরাই তার মূল উদ্দেশ্য।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাস্তি’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও মানবিক গল্প হিসেবে পরিচিত। গল্পের মূল উপজীব্য গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীর নীরব আত্মত্যাগ।
গল্পে দুই ভাই-চিদাম ও দুখিরামের পারিবারিক জীবনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনি। এক তুচ্ছ বিরোধের জেরে চিদাম হঠাৎ রাগের মাথায় দুখিরামের স্ত্রীকে হত্যা করে বসে। পরে আইনের হাত থেকে বাঁচতে সে নিজের স্ত্রী চন্দরা’র ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে দেয়।
চন্দরা নির্দোষ হয়েও স্বামী ও সমাজের চাপে হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়। মৃত্যুদণ্ডের আগে সত্য বলার সুযোগ পেলেও সে আর কিছু বলে না। এই নীরবতাই হয়ে ওঠে গল্পের সবচেয়ে গভীর প্রতিবাদ-যেখানে আত্মসম্মান, বিশ্বাসভঙ্গ আর অবিচারের বিরুদ্ধে তার শেষ অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ছবিটি নির্মাণের সঙ্গে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, ‘শাস্তি’ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়; এটি নারীর ওপর আরোপিত অন্যায়, নৈতিক ভাঙন এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

