যে তিন আমলেই রয়েছে জান্নাতের নিশ্চয়তা
মানুষ জান্নাত চায়, কিন্তু জান্নাতের পথ অনেক সময় আমাদের চোখের সামনেই থাকে—আমরা তা বুঝে উঠতে পারি না। ইসলাম কোনো জটিল বা অসম্ভব জীবনব্যবস্থা নয়; বরং সহজ, মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ এক জীবনধারা। হালাল খাদ্য গ্রহণ, রাসুল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপন এবং মানুষকে কষ্ট না দেওয়া—এই তিনটি মূলনীতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে জান্নাতের চাবিকাঠি। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সেই সহজ পথই দেখিয়ে গেছেন।
হালাল খাদ্য, সুন্নতি জীবন ও নিরাপদ আচরণই জান্নাতে যাওয়ার সুনিশ্চিত পথ। রাসুল (স) বলেছেন—
مَنْ أَكَلَ طَيِّبًا وَعَمِلَ فِي سُنَّةٍ وَأَمِنَ النَّاسُ بَوَائِقَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
‘যে ব্যাক্তি হালাল খাদ্য খেয়ে জীবনযাপন করবে, সুন্নত অনুসারে আমল করবে এবং কোনো মানুষ তার দ্বারা কষ্ট পাবে না, সে ব্যাক্তি জান্নাতে যাবে।’ (তিরমিজি ২৫২২)
১️. হালাল খাদ্য: ইবাদত কবুলের ভিত্তি
হালাল খাদ্য শুধু দেহের পুষ্টি নয়, বরং আত্মার পবিত্রতারও মাধ্যম। হারাম খাদ্যে লিপ্ত ব্যক্তি যত ইবাদতই করুক, তার দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি হয়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে নির্দেশ দেন—
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا
‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র, তা থেকেই আহার করো।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৬৮)
হাদিসে পাকে নবীজি (সা.) বলেন—
إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (মুসলিম১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, আহমাদ ৮৩৪৮, দারিমি ২৭১৭, মিশকাত ২৭৬০)
২️. সুন্নত অনুযায়ী আমল: সফল জীবনের নকশা
রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর সুন্নত অনুসরণ করা মানে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা। সুন্নত শুধু নামাজ-রোজায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং কথা বলা, লেনদেন, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। আল্লাহ তাআলা কর্মের দিকনির্দেশনা দিয়ে ঘোষণা করেন—
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
‘(হে রাসুল! আপনি) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো— আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৩১)
৩️. মানুষকে কষ্ট না দেওয়া: প্রকৃত মুমিনের পরিচয়
ইসলামে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় পরিচয়— তার দ্বারা অন্যরা নিরাপদ থাকা। হাদিসে পাকে নবীজি (সা.) ঘোষণা করেছেন—
الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
‘মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি ১০)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন—
وَاللَّهِ لَا يُؤْمِنُ... الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
‘আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ (বুখারি ৬০১৬)
জান্নাতে যাওয়ার পথ কোনো রহস্যময় বিষয় নয়। হালাল খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা, সুন্নত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা এবং মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকাই একজন মুসলমানের পূর্ণাঙ্গ চরিত্র। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের সেই জীবনদর্শনই শিখিয়েছেন, যা দুনিয়ায় শান্তি এবং আখিরাতে চিরসাফল্য নিশ্চিত করে। আসুন, আমরা কথায় নয়—কাজে এই হাদিসকে জীবনে বাস্তবায়ন করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জান্নাতের উপযুক্ত বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

