ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে যেভাবে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে পালান মাচাদো
নিকোলাস মাদুরো সরকারের দমন-পীড়ন এবং গুম হওয়ার শঙ্কায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এরমাঝেই জানতে পারেন শান্তিতে নোবেল পেতে যাচ্ছেন। তড়িঘড়ি করে তাই ভেনেজুয়েলা থেকে পালানোর পরিকল্পনা করেন।
ঝড়-বৃষ্টির মাঝে দীর্ঘ সময়ের লড়াইয়ের পর সমুদ্রে তাকে নিরাপদে নেওয়ার সেই গল্প শুনিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উদ্ধারকারী দল গ্রে বুল। তাদের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখানো হয়, কিভাবে মারিয়া পালিয়ে নরওয়ে পৌঁছান। খবর সিএনএন’র
গ্রে বুলের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল সমুদ্রে একটি ছোট নৌকা থেকে মাচাদোকে একটি দ্রুতগতির নৌযানে তুলে নেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে মাচাদো নিজেই নিশ্চিত করেন যে তিনি ‘জীবিত এবং নিরাপদ’ আছেন। ভেনেজুয়েলায় আত্মগোপনে থাকার কয়েক মাস পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্যে আসা।
উদ্ধারকারী দলটির প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান স্টার্ন জানান, এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে নৌকায় রওনা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গিয়ে মাচাদোকে তুলে নেওয়া হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উদ্ধারকারী দলটি মাঝ সাগরে আরেকটি নৌকায় অপেক্ষা করছিলেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে মাচাদো কীভাবে দ্বিতীয় নৌকাটিতে পৌঁছে সেটিতে ওঠেন। মাচাদোর নৌকার আলো দূর থেকে দেখা গেলে স্টার্নকে বলতে শোনা যায়, ‘ওই যে ওরাই’। মাচাদোর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্টার্ন তাকে নৌকায় তুলতে সাহায্য করেন, ভিডিওতে সেটি দেখা যায়নি যদিও।
নৌকায় ওঠার সময় স্টার্নকে বলতে শোনা যায়, ‘হাই, মারিয়া। আমার নাম ব্রায়ান। আপনাকে পেয়ে ভালো লাগছে। আমি আপনাকে নিরাপদে নিয়েছি।’ জবাবে মাচাদো বলেন, ‘আমি খুব ভিজে গেছি, খুব ঠান্ডা লাগছে।’
ভিডিওর পরের অংশে দেখা যায়, গাঢ় রঙের জ্যাকেট ও টুপি পরে মাচাদো সরাসরি ক্যামেরার দিকে কথা বলছেন, ‘আমি মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আমি জীবিত। আমি নিরাপদ এবং গ্রে বুলের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ।’
ভিডিওর শেষদিকে স্টার্ন ও তার দলের সঙ্গে মাচাদোর কয়েকটি স্থির ছবি দেখানো হয়। ছবিগুলোর ওপর স্টার্নের কণ্ঠ শোনা যায়, যেখানে তিনি নিশ্চিত করেন যে তারা সফলভাবে তার কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন। এসময় স্টান বলেন, তারা ভেনেজুয়েলার কাছের দ্বীপ কুরাসাওর দিকে যাত্রা করছেন।
স্টার্ন জানান, দীর্ঘ, ঠান্ডা ও টানটান উত্তেজনাপূর্ণ যাত্রার পর তারা ভোরের দিকে তীরে পৌঁছান। সেখান থেকে মাচাদো একটি বিমানে করে নরওয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
গ্রে বুল জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানটি প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে চলে এবং এর বেশিরভাগ অংশই উত্তাল সমুদ্রে গভীর রাতে। এই দলটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধারে কাজ করে। স্টার্নের নেতৃত্বে তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০০টি অভিযান পরিচালনা করেছে।
শুক্রবারের আগে মাচাদো নিরাপত্তাজনিত কারণে উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। এ বিষয়ে সিএনএন তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেও জবাব পায়নি।
তবে শান্তিতে নোবেল পাওয়া মাচাদো জানিয়েছিলেন, তিনি মার্কিন সরকারের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন। তবে বিস্তারিত বলতে চাননি। সেসময় মাচাদো বলেন, ‘একদিন আমি সব বলব। কারণ এখন আমি তাদের ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না।
মাচাদোকে উদ্ধারের এই অভিযানটি অজ্ঞাতনামা দাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রে বুলের অধিনায়ক স্টার্ন। তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন, মার্কিন সরকারের সরাসরি কোনো সহায়তা এখানে ছিল না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সমুদ্রে তাদের উপস্থিতির বিষয়ে তার দল মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল।
আমেরিকার বিশেষ অভিযানে ভেনেজুয়েলার সরকারপ্রধান মাদুরো স্বস্ত্রীক আটক হয়েছেন। তাকে মাদকপাচারের মামলায় আদালতে তোলা হচ্ছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডেলিস রদ্রিগেজ। তবে দেশটির বিরোধী দলের নেতা ও নোবেল শান্তি পাওয়া মাচাদো এখন কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। তবে বিশ্বের বেশ কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি ইউরোপের বাইরে থাকতে পারেন।

