img

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, ইরানে চলমান গণবিক্ষোভের মুখে বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ওয়াশিংটনের কাছে সপরিবারে বসবাসকারী ৬৫ বছর বয়সি এই সাবেক রাজপুত্র শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দৃঢ়তার সাথে বলেন, প্রশ্নটি এখন আর ‘যদি’ নয় বরং ‘কখন’ সরকার পড়বে তার ওপর নির্ভর করছে। তিনি নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে রূপান্তরের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর মতে, সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪২৮ ছাড়িয়েছে, যদিও অন্যান্য সূত্রমতে এই সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও গত দুই সপ্তাহে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি, বরং সম্প্রতি ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছে এবং এর জন্য তিনি তেহরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন নরম অবস্থানে পাহলভি তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যেন তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার মতো ভুল না করেন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।

রেজা পাহলভি তার বক্তব্যে ইরানের এলিট বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ড কাঠামোর ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার জোরালো দাবি জানান। এছাড়া তিনি বিশ্বের সব দেশকে ইরানের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করার এবং দেশটিতে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর বিষয়ে সহায়তা করার অনুরোধ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে ক্ষমতায় এলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক গড়বেন এবং ইসরাইলের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ‘সাইরাস অ্যাকর্ড’ নামক ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করবেন।

ইরানের রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে পাহাড় সমান সমালোচনা থাকলেও পাহলভি দাবি করেন, তিনি কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে চান যা পরে গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সরকার ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। 

তার বাবার আমলের দমন-পীড়ন নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ইতিহাস লেখার দায়িত্ব ইতিহাসবিদদের, তিনি এখানে নতুন ইতিহাস গড়তে এসেছেন। ভাষণের শেষে তিনি অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করেন, তিনি ইরানে ফিরে যাবেন এবং দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবেন।

এই বিভাগের আরও খবর