img

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে স্বীকার করেছেন, সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক ভাষণে তিনি বলেন, বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এর মধ্যে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত অমানবিক ও নৃশংস। তবে এই বিপুল প্রাণহানির জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছেন। খামেনির দাবি, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাই ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৯০ ছাড়িয়ে গেছে, যদিও অনেক অধিকার গোষ্ঠী এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে দাবি করছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। 

সাইবার মনিটর নেটব্লকস জানিয়েছে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র দুই শতাংশ ছিল। বিবিসি পার্সিয়ান ও বিবিসি ভেরিফাই বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই সরকারের পতন ও সর্বোচ্চ নেতার শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নেয়। ইরান সরকার এই পরিস্থিতিকে শত্রুদের মদদপুষ্ট ‘দাঙ্গা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন। 

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী যদি হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায় তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। এর জবাবে খামেনি ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইরানি জাতির ওপর এই হতাহত ও অপবাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই জবাবদিহি করতে হবে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা যদি কোনো মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে তবে তাদের ভয়াবহ সামরিক শক্তির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন তারা যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বিপজ্জনক খেলায় লিপ্ত না হয়। যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানে বর্তমানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে, তবুও তিনি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। 

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের শিরাজসহ বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া টহল ও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর