img

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে তেহরানকে স্পষ্ট এই বার্তা পাঠিয়েছে রিয়াদ। সৌদি আরব জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো সামরিক অভিযানের অংশ হবে না এবং সে উদ্দেশ্যে তাদের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ‘সৌদি আরব তেহরানকে সরাসরি অবহিত করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে তারা যুক্ত থাকবে না এবং সৌদি ভূখণ্ড বা আকাশসীমা এ ধরনের কোনো অভিযানে ব্যবহার করা যাবে না।’ সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

এই বার্তা এমন এক সময় পাঠানো হলো, যখন ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের এই হুমকির জবাবে তেহরানও পাল্টা সতর্কতা দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে তারা আশপাশের দেশ ও জলসীমায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং নৌপরিবহন লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের এই অবস্থানকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে রিয়াদের এই অবস্থান অঞ্চলটিতে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, যার মধ্যে সৌদি আরবেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়লে সৌদি আরবের অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে বাড়তি নজর রয়েছে। 

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ