img

ফ্রান্সের অর্থনীতি ক্রমেই ভয়ংকর সংকটের দিকে এগোচ্ছে।  দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাঙ্ক অব ফ্রান্স সতর্ক করেছে, বাজেট ঘাটতি যদি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশের বেশি ছাড়িয়ে যায়, তাহলে ফ্রান্স অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে প্রবেশ করবে।  এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যাঙ্ক অফ ফ্রান্সের গভর্নর ফ্রাঁসোয়া ভিলরোয়া দ্য গালো।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফ্রান্সের প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল BFMTV-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।  একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পরিষদের সদস্য হিসেবে ফ্রান্সের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দেন।

ভিলরোয়া দ্য গালো বলেন, ২০২৬ সালে বাজেট ঘাটতি যদি পাঁচ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা ফ্রান্সের জন্য একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।  এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সরকারি ঋণের সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, লাগামহীন সরকারি ব্যয়, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা ফ্রান্সের অর্থনীতিকে মারাত্মক চাপের মধ্যে ফেলেছে।  এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর বাজেট ঘাটতি জিডিপির তিন শতাংশের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই সেই সীমা অতিক্রম করে চলছে।  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি, পেনশন ও সামাজিক ভাতা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে বাজেট ঘাটতির চাপ আরও বেড়েছে। 

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকট সামাল দিতে ফরাসি সরকারকে কঠোর ও অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।  সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ ছাড়া বাজেট ঘাটতি কমানো কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ফ্রান্স যদি সময়মতো এই সংকট মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো ইউরোজোনের আর্থিক স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর