এনসিপির সরকার পরিচালনার রূপরেখা
‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারসহ ২৪ দফা ঘোষণা করেছে। এবার এই ২৪ দফার আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল এনসিপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলটি ‘ইশতেহার তৈরি সেল’ গঠন করতে যাচ্ছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথম নির্বাচনি ইশতেহারে তারা নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করছেন। ২৪ দফার সঙ্গে আরও বিভিন্ন বিষয় যুক্ত হবে। সরকারে গেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করা হবে-সেটির রূপরেখাসহ নানা প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে। এছাড়া তরুণ ও ছাত্রসমাজকে অগ্রাধিকারে রাখা হবে। একই সঙ্গে নারীর উন্নয়নসহ ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার গুরুত্ব পাবে।
জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনি মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার তৈরির কাজ আগেই শুরু হয়েছে। এখন চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। এ নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। আমরা চাই একটি আদর্শ ইশতেহার তৈরি করতে। এ ইশতেহারের আলোকে দেশ পরিচালনা এবং দেশের মানুষের কল্যাণ করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের ২৪ দফা তো আছেই। এখন নির্বাচনি ইশতেহারে আরও কিছু বিষয় যুক্ত হবে। সরকারে গেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করা হবে, এর রূপরেখাসহ নানা প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে।
মাহাবুব আলম আরও বলেন, ইশতেহারবিষয়ক একটি শক্তিশালী সেল গঠন করা হতে পারে। শুধু নির্বাচনি ইশতেহার সেল নয়, আরও বেশ কয়েকটি সেল গঠন করা হচ্ছে। একেকটি সেলে ৭-৮ জন সদস্য থাকতে পারেন।
ইশতেহার প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত এনসিপির শীর্ষ এক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুগান্তরকে জানান, আগের ইশতেহার তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা ছিল দলটির যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহর। সম্প্রতি দল থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এখন ইশতেহার তৈরিতে বিশেষভাবে লক্ষ রাখছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ইতোমধ্যে সাতটি ইউনিট ও সেলের প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধে পদক্ষেপ, সন্ত্রাসমুক্ত দেশ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ আর্থিক খাতের সুশাসনের ওপর ইশতেহারে জোর দেওয়া হবে। নারী উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ দফা থাকবে। ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা, সর্বজনীন স্বাস্থ্য, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হবে। ইশতেহারে তরুণ ও ছাত্রসমাজকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে অবদান রয়েছে-এমন মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ইশতেহার চূড়ান্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনসমাবেশ থেকে ২৪ দফার ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করে এনসিপি। এর মধ্যে ছিল-নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক; জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার; গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার; ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার; সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন; জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার; স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ; সর্বজনীন স্বাস্থ্য; জাতিগঠনে শিক্ষানীতি; গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব; ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা; নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন; মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি; তারুণ্য ও কর্মসংস্থান; বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ননীতি; টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব; শ্রমিক-কৃষকের অধিকার; জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা; নগরায়ণ, পরিবহণ ও আবাসন পরিকল্পনা; জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা; প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।

