img

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ইশতেহার চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জুলাই চেতনাকে ধারণ করে তৈরি হবে ইশতেহার। এতে দেশের কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রকাঠামোতে ব্যাপক সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। থাকছে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তোলার কঠোর বার্তা। সততা, দেশপ্রেম, দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে হবে। ‘দুর্নীতি করব না-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না।’ এমন স্লোগান থাকছে জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে। ২০ জানুয়ারির পর যে কোনোদিন এই ইশতেহার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যোবায়ের। দলীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রধানতম সমস্যা দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স জামায়াত। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করা দুর্নীতি কমিয়ে আনতে পারলে দেশের বহু সমস্যাই দূর হবে বলে মনে করে দলটি। ফলে ক্ষমতায় গেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য জামায়াত কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকবে দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে। প্রশাসনের সর্বস্তরে এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হবে।

এছাড়া শিক্ষা প্রতিটি শিশুর অধিকার। সর্বস্তরে সততার নীতি কায়েম করতে শিশু বয়স থেকেই নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এজন্য নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষাব্যবস্থার শুরু থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। শিক্ষা ব্যয় কমিয়ে আনা, অপরিকল্পিত শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আসা, উচ্চতর গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করা থাকছে ইশতেহারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার পরও চাকরি মিলছে না। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জামায়াত গড়ে তুলতে চায় কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।

জামায়াতের ইশতেহারে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ঘোষণা থাকবে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অসততা দূর করে স্বাস্থ্য ব্যয় কমিয়ে আনা জামায়াতের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবায় জড়িত চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমস্যা সমাধানেও জামায়াতের থাকবে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি।

অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে এই খাতের নৈরাজ্য দূর করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা থাকছে জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে। জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে শুধু চাকরির পেছনে না দৌড়িয়ে উদ্যোক্তা তৈরির বড় পরিকল্পনা থাকবে জামায়াতের ঘোষণায়। এজন্য দেশীয় শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান করে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করার পরিকল্পার কথা থাকবে তাদের ইশতেহারে। আমদানি-রপ্তানিতে গতি ও সততা আনতে বদ্ধপরিকর জামায়াত। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক নীতি প্রণয়ন করবে দলটি।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে জামায়াতের ইশতেহারে থাকবে পরিকল্পনার কথা। বিশেষ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার উপায় বের করতে কৃষি গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হবে। দেশকে সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা থাকবে জামায়াতের ইশতেহারে। আধুনিক সমরাস্ত্র বৃদ্ধি করে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পরিকল্পনাও থাকবে।

প্রশাসনিক সংস্কার জামায়াতের একটি বড় এজেন্ডা। প্রশাসনের কাজে গতি আনা, ঘুস, দুর্নীতি দূর করা দলটির অন্যতম অঙ্গীকার। এজন্য নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণে সততা ও দেশপ্রেমকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা থাকবে তাদের ইশতেহারে। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা থাকছে জামায়াতের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে। এজন্য তাদের বেসিক প্রশিক্ষণে গুণগত পরিবর্তন আনা এবং দেশপ্রেম ও সেবার মানসিকতা তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়ার কথা জানাবে দলটি। ভুক্তভোগী মানুষ যেন প্রতিকার পায়, প্রকৃত সেবা পায় সেটা নিশ্চিত করার থাকবে কার্যকর পদক্ষেপের কথাও গুরুত্ব পাচ্ছে জামায়াতের ইশতেহারে।

এছাড়া জামায়াতের পররাষ্ট্রনীতিতে সংবিধানের মৌলিক নীতি, ‘কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতি অনুসরণ করা হবে। সমমর্যাদার বিষয়টিকে পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জামায়াত। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং এটাকে সম্প্রসারণ করার প্রতিশ্রুতি থাকছে তাদের ইশতেহারে। এছাড়া বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং এক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর জন্য সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া ঘোষণা থাকছে দলটির ইশতেহারে।

এই বিভাগের আরও খবর