img

রক্তে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন না থাকলে শরীরের সর্বত্র অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, সহজেই ক্লান্তি আসে এবং দৈনন্দিন কাজে এনার্জির অভাব দেখা দেয়। রক্তে আয়রনের মাত্রা কমে গেলে তৈরি হয় অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা)—যা বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

কেন আয়রন জরুরি

আয়রনের অভাবে শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে শরীরের প্রতিটি কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না এবং ধীরে ধীরে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই এ সমস্যা সমাধানে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ব্যালান্সড ডায়েট ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেও এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

উদ্ভিজ্জ আয়রনের ভালো উৎস

পুষ্টিবিদরা জানান, দৈনন্দিন খাবারে নিচের উপাদানগুলো রাখলে আয়রনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে—

পালংশাক, অমরন্থ

টম্যাটো, বিট

বিভিন্ন ধরনের ডাল, ছোলা, বিন্স

গুড়, খেজুর, কিশমিশ

কুমড়োর বীজ, তিল

বাদামজাতীয় খাবার

তবে শুধু আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেই হবে না। ভিটামিন সি যুক্ত না হলে শরীর আয়রন ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না।

প্রাণিজ খাবারেও আয়রন

দেহের বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী ডায়েটে মাছ, ডিম ও মাংস রাখলে প্রাণিজ আয়রন পাওয়া যায়, যা শরীরে তুলনামূলক দ্রুত শোষিত হয়।

ভিটামিন সি কেন জরুরি

ভিটামিন সি আয়রন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ডায়েটে রাখতে পারেন—

কমলালেবু

পেয়ারা

আমলকি

কিউই

বেরিজাতীয় ফল

কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন

কিছু খাবার আছে, যেগুলো আয়রন শোষণে বাধা দেয়। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো—

চা ও কফি

দুগ্ধজাত খাবার

অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার

সঠিক খাবার নির্বাচন ও নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চললে রক্তাল্পতা দূরে রাখা সম্ভব, আর শরীর থাকবে চনমনে ও কর্মক্ষম।

এই বিভাগের আরও খবর