img

এবার চাঁদের কক্ষপথেও সাফল্যের মুখ দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্পেসএক্সের ফ্যালকন নাইন রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট) চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশে রওনা দেয় নভোযান 'দানুরি'। যার অর্থ ‌‌‌‌‌‌‌‌‍‍‍‍‍‍‌‌চাঁদ উপভোগ করুন। সিউল বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই কক্ষপথে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে 'দানুরি'। এতে করে বিশ্বে সপ্তম দেশ হিসেবে স্পেসএক্সের আর্টেমিস মুন মিশন প্রকল্পের আওতায় ঢুকে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। খবর আল জাজিরা।

কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনার মধ্যেই এবার চন্দ্রাভিযানে দেশটি। উদ্দেশ্য সেখানকার মাটি, পাথর সংগ্রহসহ প্রযুক্তিগত বিভিন্ন অনুসন্ধান আর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করা। মার্কিন মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ফ্যালকন নাইন রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে চাঁদের লুনার অরবিটের উদ্দেশে রওনা দেয় নভোযান 'দানুরি'। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার কমপ্লেক্স থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

কোরিয়া অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট দ্বারা নির্মিত, ৬৭৮ কিলোগ্রাম (প্রায় ১৫০০ পাউন্ড) ক্রাফটটি বিভিন্ন সরঞ্জামসহ সর্বমোট ছয়টি পেলোড বহন করে। মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক সশস্ত্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে।

যখন এটি চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছাবে, তখন এটি নাসা, ভারত এবং চীনের মহাকাশযানের সাথে যোগ দেবে। দানুরির বৈজ্ঞানিক পেলোড চাঁদের চৌম্বক ক্ষেত্র অধ্যয়ন করবে, ইউরেনিয়াম, পানি এবং হিলিয়াম-৩ এর মতো উপাদান এবং অণুগুলির পরিমাণ পরিমাপ করবে এবং মেরুতে অন্ধকার গর্তের ছবি তুলবে যেখানে সূর্যের আলো কখনও পৌঁছায় না।

উড্ডয়নের পর কক্ষপথে সফলভাবে রকেটটি অবস্থান করে বলে জানায় স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষ। এতে করে বিশ্বে সপ্তম দেশ হিসেবে স্পেসএক্সের আর্টেমিস মুন মিশন প্রকল্পের আওতায় ঢুকে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী ডিসেম্বরেই কক্ষপথে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে 'দানুরি' এমনটাই বলছে সিউল।
 

মহাকাশে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নিজেদের সামরিক প্রতিরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী করতেই মহাকাশ কর্মসূচির ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

এই বিভাগের আরও খবর