img

আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাজধানী কাবুলে আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি হত্যার বিষয়ে তারা ‘অবগত নয়’। তবে হত্যার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যে ‘দাবি’ তা খতিয়ে দেখছে আফগান গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা কাবুলে ড্রোন হামলা চালিয়ে আয়মান আল-জাওয়াহিরিকে হত্যা করেছে। রোববার (৩১ জুলাই) ভোরে তিনি যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, সে সময় ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হন তিনি।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ আরও বলছে, আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর গত দশ বছরে এটাই আল-কায়েদার ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত।

তবে কাবুলে তালেবানের নাকের ডগায় এমন বড় একটা ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি তালেবান নেতারা মোটেও জানেন না বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘে তালেবানের প্রতিনিধি সুহেইল শাহিন। বলেছেন, আফগান সরকার ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এ ঘটনা সম্পর্কে মোটেও অবগত নন।

শাহিন আরও বলেন, ‘হত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হচ্ছে, সেই দাবির সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।’

ড্রোন হামলায় জাওয়াহিরি হত্যার ব্যাপারে রীতিমতো মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন তালেবান নেতারা। মার্কিন প্রশাসন ও গণমাধ্যম হত্যার বিষয়টি ঘোষণা দিয়ে জানালেও তালেবান এ নিয়ে তেমন কিছুই বলেনি। 

তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কীভাবে ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়া জানানো হবে তা নিয়ে তালেবান নেতারা একটি বৈঠক করেছেন।

বুধবার (৩ আগস্ট) তালেবানের অন্তত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, ওয়াশিংটনের দাবির ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয় নিয়ে কাবুল দীর্ঘ আলোচনা করেন তালেবান নেতারা।
 

বিশ্লেষকরা বলছেন, জাওয়াহিরি হত্যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যাপারে অতি সতর্কতা অবলম্বন করছে তালেবান। কারণ তাদের প্রতিক্রিয়ার নিশ্চিতভাবেই একটা প্রতিক্রিয়া থাকবে। 

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন,  তালেবান নেতারা সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলছেন। কারণ তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দরকার। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বব্যাংকের কাছে আটকে থাকা কয়েকশ’ কোটি ডলারের তহবিলও পেতে চায় তারা। 

এই বিভাগের আরও খবর