img

বেলা ১১টা থেকে জিগাতলা এলাকায় মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এর নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাস্ক পরার বিষয়ে মানুষের যেন অজুহাতের শেষ নেই। তাঁরা যেসব যুক্তি দেন, এসব কোনোভাবেই মানা যায় না। মাস্ক না পরার পেছনে মানুষের উদাসীনতাই মূল কারণ।

সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাইরে চলাচল করতে জোর দিচ্ছে। গত ২৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ১৮ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহানগরী ও জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরার বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া র‌্যাবের পক্ষ থেকেও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষের উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে।

জিগাতলা মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে পথচারী, দোকানদার, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাস্ক না পরার অপরাধে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মাস্ক না পরার অপরাধে শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে সতর্ক করা হয়।

জিগাতলা মোড় এলাকায় ফুলকলি সুইটস অ্যান্ড ফুডের বিক্রেতা খোরশেদ আলমের মুখে মাস্ক ছিল না। এই দোকানের সামনে লেখা ছিল না ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’।

ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকানের ভেতরে ঢুকতেই খোরশেদ আলম মুখে মাস্ক পরে ফেলেন। এ সময় তাঁকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খোরশেদ বলেন, সব সময়ই মাস্ক পরেন তিনি। এখন পরতে ভুলে গেছেন।

এরপর পাশের দোকান আই ম্যাক্সে যান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই দোকানের সামনেও লেখা নেই ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’। দোকানি মো. আল আমিন বলেন, গরমের কারণে মাস্ক পরেননি তিনি। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকানিকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন এবং দোকানিকে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ লেখা টানাতে সতর্ক করে দেন।

মাস্ক না পরার অপরাধে জিগাতলা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষ থেকে মোট ১১টি মামলা করা হয়। এ সময় দণ্ড পাওয়া ১১ জনের কাছ থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের পাশাপাশি ওই এলাকায় মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে মাস্কও দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান বলেন, প্রথম দিকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এখন অপরাধের মাত্রা বুঝে হাজার টাকাও জরিমানা করা হচ্ছে। অর্থদণ্ড দিয়ে আসলে মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করা যায় না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে মাস্ক পরাবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো। জনসাধারণকে আরও সচেতন হতে হবে।

জিরোআওয়ার২৪/এমএ

এই বিভাগের আরও খবর