Ads
img

করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে এমন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ভালো কথা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা স্মরণ করলে এসএলসির আচরণকে ‘এক চোখে তেল আরেক চোখে নুন বেচা’ বলেই মনে হবে।

করোনায় পিছিয়ে যাওয়া সূচি অনুযায়ী গত ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দুই দলের মধ্যে। কিন্তু এ সফর নিয়ে বাংলাদেশকে কিছু কঠিন শর্ত বেঁধে দিয়েছিল এসএলসি।

কিন্তু সেই শর্তগুলো মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করতে হতো বাংলাদেশ দলকে, তাও অনুশীলন ছাড়া। শ্রীলঙ্কাকে এ নিয়ে অনেক অনুরোধ-উপরোধ করেও ফল পায়নি বিসিবি। লঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোয়ারেন্টিন নিয়ে রীতিমতো গোঁ ধরেই বসে ছিল।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিসিবিকে যে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে অবশ্যই ১৪দিনের কোয়ারেন্টিন কঠোরভাবে মানতে হবে। এর মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ দূরে থাক অনুশীলনের সুযোগও রাখা ছিল না। এমনকি হোটেল-কক্ষ থেকেও খেলোয়াড়েরা বের হতে পারবেন না—এমন শর্তও দেওয়া হয়েছিল।

অথচ ইংল্যান্ড দলকে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না এবং তারা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। দলটা ইংল্যান্ড বলেই কি সব শর্ত শিথিল হয়ে গেল?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তবু খেলা মাঠে গড়াতে শ্রীলঙ্কায় খেলোয়াড়দের ৭ দিনের কোয়ারেন্টিন করার প্রস্তাব দিয়েছিল এসএলসিকে। এমনকি দেশ থেকে ক্রিকেটারদের কয়েক দফা করোনা পরীক্ষা করিয়ে তারপর শ্রীলঙ্কায় গিয়েও করোনা পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছিল।

কোয়ারেন্টিনে তিন দিনের পর থেকে আলাদা করে অনুশীলনের সুযোগ চেয়েছিল বিসিবি। এসএলসি এর কোনো কিছুতেই রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর।

ইংল্যান্ড দল তাঁদের দেশে আসার আগে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে শ্রীলঙ্কা দল। সেখানে তারা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না।

এ নিয়ে ডি সিলভার মন্তব্য প্রকাশ করেছে লঙ্কান সংবাদমাধ্যম, ‘শ্রীলঙ্কা দলকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। কারণ বেশিরভাগ খেলোয়াড় এলপিএলে (লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ) অংশ নিচ্ছে। এটি শেষ হবে ১৬ ডিসেম্বর আর দল ভাড়া করা বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে যাত্রা করবে ১৭ ডিসেম্বর। অর্থাৎ এক জৈব সুরক্ষিত পরিবেশ থেকে তারা আরেক জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে পা রাখবে। দুই দিন বিশ্রামের পর তারা তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে।’

প্রায় একই ধরনের প্রস্তাব বাংলাদেশও দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে। কিন্তু তারা সেটি মানেনি।

জিরোআওয়ার২৪/এমএ

এই বিভাগের আরও খবর