Ads
img

সম্প্রতি "দ্য ‘ইভিল’ ট্রায়াল অব টেন সাংচু তিব্বতীয়ান" নামের ২৪ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘দি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত’ (আইসিটি)। প্রতিবেদনে চলতি বছরের জুনে তিব্বতের আমডো অঞ্চল থেকে ১০ জন তিব্বতির বিচারের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবধিকার সংস্থা ‘ফ্রি তিব্বত’ও জুলাইয়ে এ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। 

আইসিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১০ জনকে ক্যানলহোরের একটি চীনা আদালত ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘জোর করে ব্যবসা করার’ জন্য ৯ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছে। ১০ তিব্বতি হলো- তাশি জ্ঞাতসো, নিনিচাক, গায়ালো, সোনম গিয়াল, তক্তার গিয়াল, তাসাভাং, টেনপা গায়স্তো, তামডিং দর্জি, তামডিং তাসারিং এবং চোপা তাসারিং। তাঁরা সবাই ‘নামলহা মনাস্টেরি’স ফলক ম্যানেজমেন্ট কমিটি নামের একটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ছিল। 

তিব্বতি স্বায়ত্তশাসিত এলাকার গানসু প্রদেশের কানালহোরের (গণনান) সাংচু কাউন্টি পিপলস কোর্টের ১০ ঘণ্টার একটি ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করার পর বিষয়টি জানা গেছে বলে জানানো হয় তাদের প্রতিবেদনে। ওই বিচার চলছিল দুদিন ধরে। চলতি বছরের জুন মাসের ২৮ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে চলে এ বিচারকাজ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে চীন কিভাবে তিব্বতিদের নীরব করার জন্য ‘অ্যান্টি-গ্যাং’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে। কিভাবে স্বাধীনভাবে বিচার পাওয়ার বিষটি অস্বীকার করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো আদালতের বিচারকাজ চলাকালে প্রসিকিউটর ও বিচারকরা বারবার এবং স্পষ্টতই ১০ তিব্বতিকে ‘দুষ্ট দল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে যে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে, তাঁদেরকে অনেক তিব্বতিই সম্মান করতেন। তাঁরা বৈধ অধিকারের পক্ষে কথা বলতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের হাইওয়ে প্রকল্পগুলোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের জন্য অনুরোধ করছিলেন তাঁরা। শহরে একটি কসাইখানা নিয়েও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, আশ্রমের কাজে ব্যবহারের জন্য পরিত্যক্ত জমি পাওয়া নিয়েও কথা বলতেন তাঁরা।

আদালতের কার্যক্রম গানসু কোর্ট ট্রায়াল লাইভ নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত করা হয়। তিব্বতি আসামিদের ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। যদিও এটা পরিষ্কার যে তাঁরা আইন লঙ্ঘন করেননি।

সূত্র : তিব্বত ডট নেট।

এই বিভাগের আরও খবর