Ads
img

মানসিক স্বাস্থ্য আর রোগ নিয়েই রয়েছে নানা কুসংস্কার, তার ওপর এর চিকিৎসা নিয়েও বিভ্রান্তির শেষ নেই। যেমন ‘মনের রোগের ওষুধ লাগে না, কাউন্সেলিং যথেষ্ট!’ অথবা ‘মানসিক রোগের চিকিৎসায় কাউন্সেলিং কাজের না, ওষুধই শ্রেয়!’, আবার কেউ বলেন, ‘এমন রোগের ওষুধ মাত্রই ঘুমের ওষুধ’। বিভ্রান্তির এক প্রান্তে রয়েছে অপচিকিৎসা—পানিপড়া, তেলপড়া, কবচ, জাদুটোনা, ওঝার ঝাড়ফুঁক ইত্যাদিও। এতে প্রকারান্তরে মানসিক রোগীর ক্ষতির হয়ে যায়।

মনে রাখবেন, চিন্তাশক্তি, অনুভব করা, স্মরণ রাখা, আবেগকে পরিচালিত করা—সবকিছুই কিন্তু মানসিক প্রক্রিয়া। আর এই মানসিক প্রক্রিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণ আমাদের মস্তিষ্ক। কারও মানসিক রোগ হলে তার এই মানসিক প্রক্রিয়া, আবেগ আর আচরণের পরিবর্তন দেখা দেয়। এই জায়গাতেই চিকিৎসা প্রয়োজন। ওষুধের পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্বও কম নয়। ওষুধ যেমন রোগীর মস্তিষ্কের রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে, তেমনি কাউন্সেলিং তাঁর মনকে সুসংহত করার মাধ্যমে যৌক্তিক বিশ্বাস আর আচরণে উৎসাহিত করে।

দুই ধরনের মানসিক রোগ

এক ধরনের মানসিক রোগে রোগী নিজেই বুঝতে পারেন, তাঁর কোনো মানসিক সমস্যা হচ্ছে, এ ধরনের রোগগুলো অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর। যেমন মৃদু উদ্বিগ্নতা, মৃদু বিষণ্নতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ইত্যাদি। আরেক ধরনের মানসিক রোগে রোগী কখনো বুঝতেই পারেন না এবং স্বীকারও করেন না যে তাঁর কোনো মানসিক সমস্যা হচ্ছে। এই রোগগুলো খানিকটা গুরুতর, যাকে বলা হতো সাইকোসিস; যেমন সিজোফ্রেনিয়া, গুরুতর বিষণ্নতা, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার ইত্যাদি।

নির্দিষ্ট দুর্ঘটনা ছাড়াও সম্পর্কের জটিলতা, মানিয়ে চলার সমস্যা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব—এসব কারণে মনের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে মনের চাপ কমাতে কাউন্সেলিং অগ্রগণ্য। কিন্তু যদি মনের চাপ থেকে নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা তৈরি হয়, তখন আবার ওষুধের প্রয়োজন হয়।

ওষুধ বা থেরাপি কত দিন?

মানসিক রোগের চিকিৎসা কত দিন চলবে তা রোগীর সমস্যার উপর নির্ভর করে। কারো জন্য হয়তো বছর খানিক আবার কারো হয়তো আজীবন। সময় যতই লাগুক না কেন  সম্পূর্ণ চিকিৎসা সমাপ্ত না করলে পরিপুর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়।

মনোরোগের চিকিৎসায় মনে রাখতে হবে

  • মানসিক রোগের চিকিৎসায় ওষুধের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ
  • কিছু মানসিক রোগে ওষুধের পাশাপাশি সাইকোথেরাপিও প্রয়োজনীয়
  • রোগের লক্ষণ গুরুতর হলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, এমনকি রোগী অনিচ্ছুক হলেও
  • চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও কথায় বা পরামর্শে ওষুধ বন্ধ করা বিপদের কারণ হতে পারে
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে ভয় না পেয়ে রোগকে নিরাময় বা নিয়ন্ত্রণের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে

রোগী কোন ধরনের মানসিক রোগে ভুগছেন এবং সেটার চিকিৎসার গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, সেটা জানা রোগী ও স্বজনের অধিকার। সেটা ব্যাখ্যা করা চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ব। তাই চিকিৎসা নিয়ে অহেতুক ভীতি ছড়াবেন না।

জিরোআওয়ার২৪/এমএ

এই বিভাগের আরও খবর