Ads
img

নিজেদের জলসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ ঢোকা বন্ধ করতে আজ রোববার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া সাফ জানিয়েছে, গুলিতে নিহত দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তার মরদেহ খুঁজে বের করতে তারা নিজেরাই তল্লাশি চালাবে। সেইসঙ্গে দেশটির সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার নৌ অভিযান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াবে। এএফপির খবরে উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

উত্তর কোরিয়ার সেনারা গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার মৎস্য বিভাগের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে। ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটলো।  সিউলের সেনাদের অভিযোগ, গুলি করার পরে উত্তর কোরিয়ার সেনারা ওই কর্মকর্তার শরীর আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনার পরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চিঠি পাঠিয়ে  ক্ষমা চান। আজ দেশটি অভিযোগ করেছে, ওই কর্মকর্তার মরদেহ খুঁজতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজগুলো উত্তর কোরিয়ার জলসীমায় ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছে ।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটা উচিত হয়নি। কেসিএনএ আরও জানায়, ওই কর্মকর্তার মরদেহ খুঁজে বের করতে পিয়ংইয়ং তল্লাশি অভিযানের ব্যবস্থা করছে। মরদেহ খুঁজে পেলে তা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

কেসিএনএ আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজগুলো ঘটনাস্থলের কাছে উত্তর কোরিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করেছে। কেসিএনএ সাফ জানিয়েছে, আমরা আমাদের জলসীমায় কারও অনুপ্রবেশের ঘটনা কখনই ছোট করে দেখতে পারি না। আমরা দক্ষিণ কোরিয়াকে এ বিষয়ে সতর্ক করছি। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। কারণ এ থেকে আরও ভয়ংকর কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল শনিবার গুলির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে আরও তদন্ত দাবি করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনে যৌথ তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা বিরল। পরমানু ইস্যুতে পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যেকার আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। দুই কোরিয়ার মধ্যেকার সম্পর্কেও অচলাবস্থা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে চিঠিতে কিম জং উন এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমে এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানের আবাসিক ভবন ও নির্বাহী কার্যালয় ব্লু হাউস বলেছে, প্রেসিডেন্ট জায়ে ইন মুনকে একটি চিঠি পাঠিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিম এটিকে লজ্জাজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। মুন ও দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণকে এভাবে হতাশ করায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক সুহ হুন বলেন, হত্যার তদন্ত প্রতিবেদনও দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়া বলেছে, তাদের জলসীমায় প্রবেশের পর ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় দিতে পারেননি। তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ কারণে তাঁর মাথায় ১০টির বেশি গুলি করা হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, তাঁরা দক্ষিণ কোরীয় ওই ব্যক্তির শরীর পোড়াননি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, গত সোমবার নিখোঁজ হওয়ার সময় ইয়োনপিয়ং দ্বীপের কাছে ওই ব্যক্তি একটি টহল নৌকায় ছিলেন। ওই দ্বীপটি উত্তর কোরিয়া সীমান্তের ১০ কিলোমিটার অদূরে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার মৎস্য বিভাগে কাজ করতেন। তিনি দুই সন্তানের জনক। নৌকায় তিনি জুতা খুলে রেখেছিলেন।

জিরোআওয়ার২৪/এমএ

এই বিভাগের আরও খবর