Ads
img

মুখে মাস্কের ব্যবহারে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কতটা সফল, এ নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। ধন্দের ধাঁধা আছে ষোলো আনাই: মাস্ক পরব কি পরব না? আর ব্যবহার করলে কোন মাস্ক? সস্তার ওয়ানটাইম সার্জিক্যাল মাস্ক, না দামি এন৯৫ মাস্ক, নাকি মধ্যম দামের গেঞ্জি বা সুতি কাপড়ের মাস্ক?

স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্বগুরু এক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই মাস্ক নিয়ে কত কথা বলছে। আজ এ কথা বলে তো কাল সে কথা। এই তো, রোববারই সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে, স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের মাস্ক পরা উচিত। পাঁচ-ছয় বছরের শিশুদের মাস্ক না পরলেও চলবে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই তারা বলেছিল, সুস্থ মানুষের মাস্ক পরার দরকার নেই। এরপরই আবার তারা ঘোষণা করে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে গণজমায়েতের স্থানগুলোয় সবার মাস্ক পরা দরকার।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান কিন্তু মুখে মাস্ক এঁটে চলাফেরা করারই পক্ষে। তাদের ব্যাখ্যাটি হচ্ছে করোনায় সংক্রমিত মানুষের মুখনিঃসৃত মিহি জলকণা বা ড্রপলেটস থেকে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। যেহেতু ব্যাপক পরীক্ষার বালাই নেই, কাজেই কার মধ্যে করোনা ঘাপটি মেরে আছে, কে জানে? জনে জনে পরীক্ষা করে করোনায় সংক্রমিত সব মানুষ শনাক্ত করা বাস্তবে সম্ভবও নয়। সে ক্ষেত্রে মাস্ক পরাই শ্রেয়।

কিন্তু কায়িক শ্রমের রোজগেরে মানুষের পক্ষেও মুখে হরদম মাস্ক এঁটে কাজ করা কঠিন। দিনমানে তাদের এমন সময়ও আসে, যখন হাঁ করে দম নিতে হয়। তখন মাস্ক দূরে থাক, খোলা মুখে স্বস্তিকর হাওয়া থাকলে বরং ভালো। এসব বাস্তবতা না মানার জো আছে?

রিকশায় যাব, তাকে বললাম, ‘মুখের বদলে থুতনিতে মাস্ক কেন, ভাই?’ উত্তরে চালক বলেন, ‘রিকশা চালানোর সময় মুখে দিতাম ফারি না। দম লইতে কষ্ট অয়। ইতা রাহি খালি পুলিশের ডরে।’

মাস্ক নিয়ে অরুচি গোটা আমেরিকায়ও। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে ভাইরাসরোধী মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কঠোর সুরক্ষাবিধিকে গুল্লি মেরে মাস্কবিরোধীরা সড়কে সরব। যুক্তরাজ্যেও হাজারো মানুষ মাস্কবিমুখ। মাদ্রিদ আর ডাবলিনের মতো বড় বড় শহরে অগণিত মাস্কবিরোধী বিক্ষোভ করেছে। তাদের কথা, এই বাধ্যবাধকতা ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী। স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?

তা স্ফুরণ যতই ঘটুক, বাস্তবতা কিন্তু মেনে নিতেই হয়। তাই নাছোড়বান্দা ট্রাম্পকেও গোঁয়ার্তুমি ছেড়ে সোজা হতে হয়েছে। গত জুলাইয়ে মুখে কালো মাস্ক এঁটে জনসমক্ষে এসে ট্রাম্প বলেন, ‘মাস্ক পরা খুব ভালো একটা ব্যাপার।’

তবে কথা হলো যে মুখে মাস্ক এঁটে চলাফেরা করায় ভালো লাগুক বা মন্দ লাগুক, সেটা এখন বিবেচনার বিষয় নয়। সময়ের দাবি, নিজেকে করোনা থেকে নিরাপদ রাখতে, অন্যদের সুরক্ষা দিতে মাস্ক পরাটা আবশ্যক।

জিরোআওয়ার২৪/এমএ

এই বিভাগের আরও খবর